কিছুটা ভঙ্গুর বৈশিষ্ট্যের ধাতব পদার্থ জিঙ্ক বা দস্তা। রসায়নের বই হতে জেনেছি, সংকর ধাতুর উপাদান হিসাবে নয়ত গ্যালভানাইজেসন প্রক্রিয়ায় প্রলেপ দেয়ার জন্য এর গুরুত্ব। মানবদেহের জন্য কতটা জরুরী এই খনিজ উপাদান আমরা কি জানি?
বিশেষ করে করোনা পরিস্থিতিতে-মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাই যেখানে মূল হাতিয়ার, জিঙ্কের ভূমিকা সেখানে চমকপ্রদ।
মানবদেহে জিঙ্কের ভূমিকা
শারীরবৃত্তীয় প্রায় ১০০ টির ও বেশি বিক্রিয়ায় জিঙ্কের প্রয়োজন হয়। প্রাচুর্যের দিক থেকে দেহে আয়রনের পরে জিঙ্কের অবস্থান। মূলত দৈহিক বৃদ্ধি, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং প্রজননে এই খনিজ উপাদান অপরিহার্য। দ্রুত ক্ষত সারানো, খাবারের স্বাভাবিক স্বাদ-গন্ধ-রুচির জন্য, থাইরয়েডের কার্যক্রম ঠিক রাখতে, দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে ও জিঙ্ক দরকার।
জিঙ্কের অভাবে কী কী সমস্যা হয়?
গবেষণায় দেখা গেছে, বিশ্বের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ লোক তাদের স্বাভাবিক উচ্চতায় পৌছাতে পারে না জিঙ্কের অভাবে। আরও যে সব লক্ষণ প্রকাশ পায় তা হল – ক্ষুধামন্দা, বমি ভাব, চুল পড়া, স্নায়ুর দূর্বলতা, ডায়রিয়া, শারীরিক বিকাশ ও বৃদ্ধি লোপ পাওয়া, স্বাদ ও গন্ধের অনুভূতি হ্রাস, ক্ষত সারতে বিলম্ব হওয়া ।
শরীরে অপ্রতুল জিঙ্কের পরিমাণের সাথে বন্ধ্যাত্ব, ডিপ্রেশন, টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ও সংযোগ পাওয়া গিয়েছে।
রোগ প্রতিরোধে জিঙ্ক কীভাবে কাজ করে?
শুধুই সহায়ক ভূমিকা নয়, জিঙ্কের রয়েছে কিছু এন্টি-ভাইরাল গুনাবলী। বর্তমানে করোনা ভাইরাস মোকাবেলায়ও প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ ভূমিকা আছে বলে ধারণা করা হয়। যেমন-
১.ভাইরাসের বিরোধী রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে,
২. কোষের ভেতরে ভাইরাস প্রবেশে বাধা দেয়
৩. ভাইরাস আক্রান্ত দূর্বল কোষের কার্যক্ষমতা বাড়ায়,
৪. এন্টি ভাইরাল থেরাপি বা ওষুধের দক্ষতা বৃদ্ধি করে
৫. ভাইরাল রেপ্লিকেসন বা ভাইরাসের বংশবৃদ্ধি প্রক্রিয়া হ্রাসে সাহায্য করে।
প্রাত্যহিক কতটুকু জিঙ্ক প্রয়োজন?
জিঙ্ক একটি মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট, অর্থাৎ শরীর নিজ থেকে তা উৎপাদন করতে পারে না। তাই খাবারের মাধ্যমে গ্রহণ করতে হয়। দৈনিক পুরুষদের জন্য ৯.৫ মিগ্রা এবং মহিলাদের জন্য ৭মিগ্রা জিঙ্ক প্রয়োজন।
জিঙ্ক সমৃদ্ধ খাবার কোনগুলো?
কুমড়োর বীচিগুলো ফেলে দিচ্ছেন তো? আজ থেকে রেখে দিন। ভালোমতো ধুয়ে শুকিয়ে রাখুন। সামান্য একটু লবন দিয়ে টেলে নিন….খেতে পারেন স্ন্যাক্স হিসেবে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে এর জুড়ি নেই। কারণ প্রতি ১০০গ্রাম কুমড়োর বীচিতে আছে প্রায় ৮ মিলিগ্রাম জিঙ্ক।
সামুদ্রিক মাছ, গরু/খাসির মাংস, মুরগির মাংস, কলিজা, টকদইয়ে রয়েছে প্রচুর পরিমানে জিঙ্ক।
কাজুবাদাম, কাঠবাদাম, মটরশুঁটি, বেদানা, পেয়ারা,পালংশাক, ডালজাতীয় খাবার এবং ওটমিল ও জিঙ্কের ভালো উৎস।
কোভিড-১৯ এ সার্বিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উন্নতির জন্য জিঙ্ক সমৃদ্ধ খাবার দৈনন্দিন খাদ্য তালিকায় তাই স্থান পেতে পারে।